1. admin@ekattorerprotibadikontho.com : admin :
  2. : একাত্তরের প্রতিবাদী কন্ঠ ডেস্ক : একাত্তরের প্রতিবাদী কন্ঠ ডেস্ক
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
দেশটা একদম মোবের মুল্লুক হয়ে গেল, আগে মব করত টুকাইরা,এখনো ডাক্তারেরাও করে বোদা ভূমি অফিসের তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ কানাডা ও রাশিয়া থেকে ৭০৯ কোটি টাকার সার কিনবে সরকার ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ প্রকাশ, জামিনে মুক্ত সেই নারী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার করতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী বোঝা যায় তলেতলে একটা খাতির ছিল: বিএনপি-কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত গোলাম পরওয়ারের নার্সিসিস্টিক অ্যাবিউজের কারণে মস্তিষ্কের যে ধরনের ক্ষতি হয় ‘আওয়ামী স্টাইলে দেশ চালাতে চাইলে পরিণতিও তাদের মতোই হবে’ দক্ষ জনশক্তি গড়তে কর্মমুখী শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে বললেন রাষ্ট্রপতি

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের সাবস্টেশনে চুরি, ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন নতুন ভবন

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত

জাতীয় ডেস্ক: ফেনী সদর হাসপাতালের বিদ্যুৎ সাবস্টেশনে চুরির একটি বড় ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা হাসপাতালের পেছনের দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। সাবস্টেশনের ভেন্টিলেশন ফ্যান খুলে তারা ভেতরে ঢোকে এবং ট্রান্সফরমার ও জেনারেটরের বিভিন্ন দামি যন্ত্রাংশসহ সব তামার তার চুরি করে নিয়ে যায়। সকালে এই চুরির বিষয়টি জানাজানি হলে হাসপাতালে চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এর আগেও এই সাবস্টেশনে চুরির ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা গেছে। বারংবার এমন চুরির ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ফেনী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং এর সাথে জড়িতদের শনাক্ত করার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধ করতে সাবস্টেশন এলাকায় নতুন করে তিনজন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এই চুরির কারণে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের নতুন ভবনে প্রায় চৌদ্দ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। বিদ্যুৎ না থাকায় নতুন ভবনের আইসিইউ, মেডিসিন, আইসোলেশন ও সার্জারি ওয়ার্ডের কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হয়। ওয়ার্ডগুলোর আলো, ফ্যান এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকায় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা সেবা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হয়। চিকিৎসাপত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং জরুরি সেবা পেতে দেরি হওয়ায় রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগের সীমা ছিল না। বিশেষ করে তীব্র গরম এবং অন্ধকারের মধ্যে রোগী ও তাদের পরিজনরা এক প্রকার ভীতি ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সময় পার করেন। ভুক্তভোগী রোগীরা জানান, পুরো হাসপাতাল চত্বর যেন দীর্ঘক্ষণ এক ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছিল। আলট্রাসনোগ্রাফি ও ল্যাবরেটরি সেবা বন্ধ থাকায় দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।

খবর পাওয়ার পর থেকেই সাবস্টেশনের বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করতে কাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। সাবস্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান জানান, চোরেরা অত্যন্ত সুকৌশলে ট্রান্সফরমার ও বড় জেনারেটরের সব তামার তার ও মূল্যবান যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে গেছে। দিনভর চেষ্টার পর হাসপাতালটির দুটি বিদ্যুৎ লাইনের মধ্যে একটি বেলা এগারোটার দিকে এবং অপরটি বিকেল নাগাদ পুরোপুরি সচল করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রমে যে বিঘ্ন ঘটে, তার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বেশ সময় লাগে। হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার নুরুননবী জানান, রাতে একজন নাইটগার্ড পাহারায় থাকলেও সাবস্টেশনটি পেছনের দিকে হওয়ায় চুরির বিষয়টি কারো চোখে পড়েনি। ফেনী গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আনিসুল হক জানান, সাবস্টেশনটি গণপূর্তের অধীন হলেও এটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করে এবং এর নিরাপত্তার দায়িত্বও তাদের ওপর বর্তায়। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা রৌকন উদ দৌলা বলেন, রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলেও বিষয়টি আমাদের নজরে আসে মূলত সকালে। তিনি আরও জানান, অতীতেও এই সাবস্টেশন থেকে বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরি হয়েছে এবং নিরাপত্তারক্ষী থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের অপরাধ ঠেকানো যাচ্ছে না। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোবারক হোসেন দুলাল জানান, শুধু সাবস্টেশন নয়, এর আগেও হাসপাতালের বিভিন্ন ভবন থেকে থাইগ্লাস ও বাথরুমের কলসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি চুরির ঘটনা ঘটেছে। কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। এই ঘটনার পর হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুততম সময়ের মধ্যে চোর চক্রকে ধরে আইনের আওতায় আনবে বলে আশা প্রকাশ করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ একাত্তরের প্রতিবাদী কন্ঠ