1. admin@ekattorerprotibadikontho.com : admin :
  2. : একাত্তরের প্রতিবাদী কন্ঠ ডেস্ক : একাত্তরের প্রতিবাদী কন্ঠ ডেস্ক
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
দেশটা একদম মোবের মুল্লুক হয়ে গেল, আগে মব করত টুকাইরা,এখনো ডাক্তারেরাও করে বোদা ভূমি অফিসের তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ কানাডা ও রাশিয়া থেকে ৭০৯ কোটি টাকার সার কিনবে সরকার ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ প্রকাশ, জামিনে মুক্ত সেই নারী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার করতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী বোঝা যায় তলেতলে একটা খাতির ছিল: বিএনপি-কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে ইঙ্গিত গোলাম পরওয়ারের নার্সিসিস্টিক অ্যাবিউজের কারণে মস্তিষ্কের যে ধরনের ক্ষতি হয় ‘আওয়ামী স্টাইলে দেশ চালাতে চাইলে পরিণতিও তাদের মতোই হবে’ দক্ষ জনশক্তি গড়তে কর্মমুখী শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে বললেন রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশে হামের প্রকোপে ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও প্রাদুর্ভাবের ‘সতর্কতা’

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত

স্বাস্থ্য ডেস্ক: বাংলাদেশে সম্প্রতি ভয়াবহ আকার ধারণ করা হামের প্রাদুর্ভাব দেশের সার্বিক টিকাদান ব্যবস্থার ভঙ্গুর অবস্থাকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি স্বাধীন কমিটি সাম্প্রতিক এক গবেষণার পর জানিয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটানো না হলে দেশটিতে ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও পোলিও ভাইরাসের মতো মারাত্মক রোগগুলোর বড় ধরনের মহামারি দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান হামের এই প্রকোপ মূলত দেশের টিকাদান কর্মসূচির মারাত্মক অবনতির একটি বড় সতর্কসংকেত হিসেবে কাজ করছে এবং জরুরি পদক্ষেপ না নিলে আরও ভয়াবহ দিন অপেক্ষা করছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর মার্চ মাস থেকেই দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। এ পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রায় দুই লাখ ২০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন এক হাজার দুই শতাধিক মানুষ। বিগত কয়েক দশকের মধ্যে এটিকে দেশের সবচেয়ে মারাত্মক ও প্রাণঘাতী হামের প্রাদুর্ভাব বলে মনে করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জাহিদ রায়হান জানিয়েছেন যে, বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ অনুযায়ী টিকাদানকর্মী সংকট কাটাতে দ্রুত নতুন কর্মী নিয়োগ করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের ৭০ সদস্যের একটি দল দেশের বর্তমান টিকাদান কর্মসূচি পর্যালোচনা করে বেশ কিছু গুরুতর ত্রুটি ও সংকট চিহ্নিত করেছে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মাত্র ৮২ শতাংশ শিশু পূর্ণাঙ্গ টিকাদানের আওতায় আসতে পেরেছে, যা জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা ৯৫ শতাংশের তুলনায় বেশ কম। এর পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে টিকাদানকর্মীদের প্রায় ৪০ শতাংশ পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে, যা টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, আন্দোলন এবং পরবর্তীতে নানা রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ধর্মঘটের কারণে শিশুদের নিয়মিত রুটিন টিকাদান এবং নির্ধারিত ক্যাম্পেইনগুলো বারবার ব্যাহত হয়েছে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে একটি রোল মডেল হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৭৯ সালে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই চালুর পর দেশ থেকে পোলিও ও টিটেনাসের মতো রোগ সাফল্যের সঙ্গে নির্মূল করা সম্ভব হয়েছিল এবং রুবেলা ও হেপাটাইটিস বি-ও নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকাদানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় শিশুরা পুনরায় মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধির ঝুঁকিতে পড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ যা হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায় এবং এর নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। বিশেষ করে শিশুরা এতে বেশি আক্রান্ত হয় এবং এর জটিলতায় মস্তিষ্কে প্রদাহ ও গুরুতর শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

অন্যদিকে, হুপিং কাশি শিশুদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং ডিপথেরিয়ায় শ্বাসনালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি হৃদ্‌যন্ত্র ও স্নায়ুর স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। পর্যাপ্ত টিকার আওতার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীর মধ্যে পোলিও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে তা শিশুদের পক্ষাঘাতগ্রস্ত করে তুলতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ এবং গ্যাভি ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় সরকার টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার চেষ্টা চালালেও মাঠপর্যায়ের জনবল সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতা দ্রুত দূর করা না গেলে জনস্বাস্থ্য এক বড় বিপদের মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ একাত্তরের প্রতিবাদী কন্ঠ